Ads Top

ছোট্ট ছুটির খোঁজে বংকুলুং

ছোট্ট ছুটির খোঁজে বংকুলুং


অন্যরুট, মিরিক, দার্জিলিং, ০২/০৩/২০২১ : আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাঁরা প্রতিদিন কাজের চাপে অস্থির হয়ে ওঠেন একটু হাঁফ ছেড়ে দৈনন্দিন রুটিন থেকে ক্ষণিক অব্যাহতি পাওয়ার জন্যে। দার্জিলিং বা কালিম্পঙ পাহাড়ে কিন্তু এরকম অনেকগুলি গন্তব্য আছে, যেখানে গিয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেন, প্রাকৃতিক নিসর্গ আর ব্যস্তহীন দুটো দিন কাটিয়ে আসতে  পারেন। সেইরকমই একটা জায়গা হল বংকুলুং গ্রাম। রাতের বেলায়  ট্রেন বা বাসে উঠে ভোরবেলায় শিলিগুড়ি পৌঁছানো আর শিলিগুড়ি থেকে অল্প দূরত্বে পাহাড়ের ওপর সুন্দর পোস্টকার্ডের ছবির মতন ছোট্ট জনপদ বংকুলুং গ্রাম।


রাতের বেলায় কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ট্রেনে করে পরের দিন সকালে পৌঁছে যান শিলিগুড়ি শহরে। অবশ্য দমদম বিমানবন্দর থেকেও আকাশপথে কিচ্ছুক্ষনের মধ্যেই পৌঁছে যেতে পারবেন বাগডোগরা হয়ে শিলিগুড়ি শহরে। শিলিগুড়ি শহর থেকে বংকুলুং গ্রামের দূরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং বা ঋষি রোড ধরে অনায়াসেই পৌঁছে যেতে পারবেন পাহাড়ি এই ছোট্ট জনপদে। 

বংকুলুং গ্রামটি সবুজ চা বাগানে ঘেরা। এখানে চতুর্দিকে সবুজে সবুজ আর মাথার ওপর ঘন নীল আকাশ। মিরিক বা কার্শিয়াং শহর এখান থেকে খুব দূরে নয়।. চা বাগানগুলিকে ঘিরেই বংকুলুং গ্রামের জীবনযাত্রা গড়ে উঠলেও পর্যটনের ছোঁয়াও লেগেছে এই পাহাড়ি গ্রামের গায়ে। অতিথিবৎসল এখানকার সহজ সরল মানুষগুলির আপ্যায়ন আপনাকে অনেকদিন মনে রাখতে হবে। বেড়াতে গেলে দেখবেন, কিভাবে ওই গ্রামের মানুষজন আপনাকে খুশী করার জন্যে সারাদিন নিরালস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 


বংকুলুং গ্রামে গাছপালা এবং সবুজের আধিক্য যেন একটু বেশিই। গ্রামের বাড়িগুলো যেন সত্যিই পোস্টকার্ডের ছবি।. প্রত্যেকটি বাড়ির সামনে কিছুটা অংশে গড়ে তোলা হয়েছে সুন্দর বাগিচা। সেই বাগিচায় সযত্নে লালিত হচ্ছে ফুল, ক্যাকটাস, অর্কিড। এই গ্রাম থেকে মুরমাহ এবং গয়াবাড়ি চা বাগান ও তার কারখানাগুলি খুব কাছেই রয়েছে। সেখান থেকে ভেসে আসা চা পাতার গন্ধ আপনাকে সতেজ করে রাখবে।  কাছাকাছি রংভং এ আছে কমলাবাবুর বাগান। পায়ে পায়ে দেখে আসতে  পারেন, উপরি হিসেবে পাবেন আরও কিছু নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য।

বংকুলং গ্রাম রয়েছে সুন্দর একটি মনাষ্ট্রি।  মন ভাল লাগাতে সেখানে বসে একমনে একটু মেডিটেশন সেরে নিতে পারলে ভাল লাগবে। ইচ্ছে করলে বংকুলুং থেকেই কাছাকাছি মিরিক শহরটিও ঘুরে নিতে পারেন। আর যদি নিজেকে ব্যস্ত না করতে চান তাহলে এই গ্রামে একটা বা দুটো রাত কাটিয়ে দিন, মানসিকভাবে নিজেকে সতেজ লাগবে। রাতে পাহাড়ের মাথা ছাড়িয়ে আকাশের তারা দেখুন অথবা অদূরে দেখুন রাতের আলো ঝলমলে কার্শিয়াং শহরটিকে।


কেউ যদি জিজ্ঞাসা করেন বংকুলুং গিয়ে কি করবেন ?  কি কি করণীয় আছে সেখানে ? তাহলে আমি বলব, কিছু করার নেই, শুধুমাত্র সপ্তাহান্তিক ছুটিটায় পরিবারকে অঢেল সময় দেওয়ার মত অবসর আছে। অদ্ভুত নিস্তব্ধতা আছে।. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আছে, যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আপনি ইচ্ছে করলে হালকা অরণ্যে একটু ট্রেক করে আসতেই পারেন। চা কারখানা থেকে ঘুরে আসতে পারেন, কিভাবে কাঁচা পাতা তুলে তা থেকে চা  তৈরি করা হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করতে পারেন। অপার্থিব সৌন্দর্য্যের মাঝে সারাদিন ছবি তুলতে পারেন। বালাসন বা মুরমাহা  নদীর স্রোতে নেমে মাছ ধরতে পারেন, আবার সেই মাছগুলোকে জলে ছেড়েও দিতে পারেন। গরম চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে সূর্যোদয় দেখতে পারেন। সন্ধ্যেবেলায় ভ্রমরার গুঞ্জন আপনাকে এতটুকুও বিরক্ত করবে না। 


কোথায় থাকবেন : বংকুলুং রিট্রিট ইকো  হাট - ৯০৭৩০২৬১৪৫, খিম খেসঙ্গ হোম  স্টে - ৮১৪৫৮২৯৩০৩, রঙ্গভং  হোম স্টে  - ৯৮৩২৯১৩৬১৭, বংকুলুং জঙ্গল ক্ল্যাম্প - ৯৬৭৪১২৩৪৪৯। হোম স্টেগুলিতে আধুনিক সব ব্যবস্থাপনাই  রয়েছে। উইকএন্ড গন্তব্য হিসেবে আদর্শ জায়গা হয়ে উঠতে চলেছে এই বংকুলুং গ্রাম।

1 comment:

  1. উইক এন্ড এ এত ভালো একটা জায়গার খোঁজ দেবার জন্য ধন্যবাদ।

    ReplyDelete

Aaj Khabor. Powered by Blogger.